হোস্টিং নরমালি দুইটা জিনিসের উপর নির্ভর করে। একটা হলো স্পেস আরেকটা ব্যান্ডউইথ। স্পেস হলো কি পরিমাণ ফাইল আমি রাখব। 

অনেক সময় আমরা অফার দেখি দুই জিবি হোস্টিং ইয়ারলি ৫০০ টাকা। দুই জিবি হোস্টিং কি?  এই যে আপনি যে ডাটা রাখবেন সেই ডাটার টোটাল ওজন হলো দুই জিবি। যদি এর বেশি কখনো হয় তাহলে আপনার সাইট ডাউন করবে। 

সাইট যদি ডাউন করে তাহলে আবার ওদের সাথে কথা বলতে হবে এবং এক্সট্রা ফি দিয়ে আবার সাইটটাকে আপ করতে হবে। 

আমরা যদি নেমচিপের শেয়ার্ড হোস্টিং দেখি তাহলে দেখব খুবই চিপ রেটে দিচ্ছে। শেয়ার্ড হোস্টিং নিয়ে একটু পরে আলোচনা করব। 

নেমচিপের হোস্টিং  এসএসডি। এটা ভালোই। দুই ও তিন নাম্বার সাইটে অটো ব্যাকআপ আছে। অটোব্যাকআপ খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাইট যদি কখনো হ্যাক্ড হয় তাহলে অটোব্যাকআপের কারণে রিকভার করা যায়। স্টার্টআপ ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে এই প্ল্যানগুলো ভালই। 

স্পেস নিয়ে এই মুহূর্তে আমার কোনো টেনশন নাই। এই মুহূর্তে আমার কনটেন্ট কম। শুরুতে তাই ২০ জিবি এসএসডিই এনাফ। 

কিন্তু কোনোভাবে যদি আপনার ট্রাফিক বেড়ে যায় তাহলে তখন এই টাইপের হোস্টিং লোড নিতে পারবে না। এখানে ডিটেইলস  বলা আছে। দেখেন। 

লোড নিতে পারবে না মানে সাইট ডাউন হয়ে যাবে। 

ডাউন হয়ে যাবে এবং কত ট্রাফিক লোড নিতে পারবে সেটা আমরা একটা সাইট থেকে দেখে নিতে পারি। কী পরিমাণ ট্রাফিক লোড নিতে পারবে সেটাই ব্যান্ডউইথ। 

আমরা Site Ground থেকে দেখে নিতে পারব। এর প্ল্যানগুলোতে বলেও দেওয়া হয় মাসিক কত ভিজিট হবে কোন প্ল্যানে। 


স্পেস ও ব্যান্ডিউইথ আমাদের মাথায় নিতে হবে। আরেকটা বিষয় মাথায় নিতে হবে সেটি হলো ডাটা সেন্টার। অর্থাৎ হোস্টিংটা কোথায় হলে বেটার হয়। 

ধরেন আমি যদি বাংলাদেশে আমার ওয়েবসাইট লঞ্চ করি তাহলে বাংলাদেশে ডাটা সেন্টার থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বাংলাদেশে কোনো  ডাটা সেন্টার নাই। হোস্টিংয়ে ডাটা সেন্টার বানানো খুবই খরচের ব্যাপার। 

বাংলাদেশের মার্কেট এত বড়ও না যে এত বিনিয়োগ করে পোষানো যাবে। 

যেহেতু বাংলাদেশে নাই তাই আমরা ট্রাই করব কাছাকাছি কোনো ডাটা সেন্টার নিতে। এটা হতে পারে ধরেন সিঙ্গাপুর অথবা ভারত। আমরা যদি ইউএস ডাটা তাহলে আমরা অনেক বেশি প্রবলেম ফেস করব। 

ডাটা সেন্টারের সুবিধাটা বোঝাই। ফাইল ক্যাশিংয়ে খুব বেশি ইমপ্যাক্ট রাখে। ফাইল ক্যাশিং কি? ধরেন আমি যে আইএসপি ইউজ করি উনার আন্ডারে ২ি/৩ হাজার সাবস্ক্রাইবার আছে। আমি যে ওয়েবসাইটটা এখান থেকে লোড দিচ্ছি সেই লোডিংটা অর্থাৎ ক্যাশিংটা আমার শুধু ব্রাউজারেই আসছে না আইএসপির অন্যান্য ইউজারের কাছেও এক ধরনের সার্কুলেশন হয়ে যায়। 

তাই ডাটা সেন্টারটা যত কাছাকাছি হবে ক্যাশিং তত বাড়বে। ধরেন আমি আমি একটা কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলাম Hosting price in Bangladesh. আমার কাছে যে ওয়েবসািইট আসছে আমি যে সাইটে ক্লিক করলাম আমার একই আইএসপি যারা ইউজ করছে হয়তোবা ওই একই ওয়েবসাইট তাদের কাছেও চলে যাওয়ার একটা চান্স থাকে শুধুমাত্র ক্যাশিংয়ের জন্য। তাই ডাটা সেন্টার কাছাকাছি হওয়া তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিকের জন্য। 

আমরা যদি ইউএস ট্রাফিক নিয়ে কাজ করি তাহলে ডাটা সেন্টার ইউএসএ তে হওয়া উচিত। আর এসএসডি হোস্টিং নেওয়া যদি পসিবল হয় তাহলে সেটাই নেওয়ার চেষ্টা করব। না হলে অবশ্য স্টার্টিংয়ে সমস্যা হবে না। 

তাই আমরা হোস্টিং কেনার আগে এই কয়টা জিনিস খুব ভালভাবে খেয়াল রাখব।